ঝিনাইদহে চাষ হচ্ছে ফিলিপাইন জাতের গ্যান্ডারি আখ

মোঃমিশন আলী,ঝিনাইদহঃ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চলতি বছর প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে ফিলিপাইন জাতের বিশেষ গ্যান্ডারি আখ। উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন (অপু) তার ৬ বিঘা জমিতে চাষ করে সকলের নজর কেড়েছেন। তার দাবি, এখাকার মাটি বিদেশী এ জাতের আখ চাষের শতভাগ উপযোগী। সারাদেশের বাজারে চাহিদা, ফলন, দাম সবই বেশি। তাই অধিক লাভজনক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খয়েরি রংয়ের কমপক্ষে ১২/১৪ ফিট লম্বা মোটা মোটা আখগুলো সারিবদ্ধভাবে সোজা দাঁড়িয়ে আছে। নুইয়ে পড়া ঠেকাতে প্রত্যেক সারির মাঝে মাঝে বাঁশের শক্ত খুঁটিতে মোটা জি-আই তারে বাধা। প্রতিটি লাইনের মাঝখান দিয়ে ভালোভাবে চলাফেরা করা যাচ্ছে। ক্ষেতের এক পাশ থেকে বেশ সাজানো গোছানো দেখা যাচ্ছে।


সফল কৃষক আলী হোসেন অপু জানান, ফিলিপাইনের এ জাতের আখ আমাদের এলাকায় প্রথম চাষ। এলাকার কোন কৃষকই লাভজনক এ গ্যান্ডারী আখের চাষ বুঝতেন না। কেউ কোনদিন চাষও করেননি। তিনিই ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার তিন্নাতপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ক্ষেত থেকে প্রতিপিচ চারা ১০০ টাকা দরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে একশ চারা কিনে আনেন। পরের বছর ২০২০ সালে চারাগুলো বৃদ্ধি করতে মাত্র ৩ শতকের বীজতলায় স্বল্প পরিসরে চাষ করেন। সে বছর একটি আখ থেকে ২০/২৫ টি চারা পান। এখান থেকে আরও কিছু চারা বাড়িয়ে নেন। যা চলতি বছরের প্রথম দিকে ২ একর জমিতে বানিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন। ৩৩ শতকের এক বিঘা জমিতে প্রায় ২৫’শ থেকে ২৮’শ চারা লাগে। সে হিসেবে নিজের ৬ বিঘার চারা রেখে বাকি চারা প্রতিপিচ ৫০ টাকা দরে বেশ কিছু চারা বিক্রিও করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ জাতের আখ কড়া মিষ্টি। প্রতিটি আখ ১৮ থেকে ২০ ফুট লম্বা হয়। প্রথম দিকে ছাড়া তেমন একটা খরচ নেই। কিন্তু অন্য ফসলের চেয়ে এটি অনেকটা সৌখিন ও লাভজনক চাষ। এলাকাতে অনেক কৃষক আগামীতে চাষ করবেন বলে চারা অর্ডার দিয়ে রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে অবস্থিত মোবারকগঞ্জ চিনিকল। ফলে তাদের পূর্ব পুরুষেরা মাঠে চিনিকলের আওতায় বিভিন্ন জাতের আখের চাষ করে আসছেন। যে আখের সুনামও রয়েছে। কিন্তু মুখে খাওয়া আখের তারা চাষ বুঝতেন না। অথচ এ এলাকার সকল বাজারে অন্য জেলা থেকে মুখে খাওয়া গ্যান্ডারী আখ এনে চড়া দামে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রথমে তিনি ইউটিউব থেকে এই আখের জাত সম্পর্কে জেনে চাষে উৎসাহিত হন। শিয়াল এ আখের প্রধান শত্রু। এছাড়াও গোবাদি পশুতো আছেই। এগুলোর হাত থেকে রক্ষা করতে প্রথমেই ক্ষেতের চারপাশে মজবুত করে ঘিরতে বেশ পয়সা ব্যয় হয়। এছাড়াও সার, সেচ, জি আই তারসহ যাবতীয় খরচ বাবদ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। পরে আর তেমন একটা খরচ নেই বললেই চলে। অথচ প্রতিবিঘা হতে প্রায় আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকার আখ পাওয়া সম্ভব। আগামী দুই থেকে অড়াই মাস পর এই আখ বিক্রির উপযোগী হবে। প্রতি পিচ  ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করতে পারবেন। আগামি বছর তিনি কমপক্ষে ৫ একর জমিতে এ আখ চাষ করবেন বলে জানান তিনি।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মোহম্মদ মেহায়মেন আক্তার বলেন, তিনিও রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপুর গ্যান্ডারী  দেখেছেন। আখ চাষ সম্পর্কে চিনিকলের কৃষি বিভাগ ভালো বলতে পারবেন। তবে মুখে খাওয়া আখ হওয়ায় আমরাও বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছি। এটা খুব লাভজনক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here