বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানান, গত জুন মাসে আশুলিয়ায় মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানির অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা। এ সময় পুলিশ এসে লাঠিপেটা করে তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে, এমন দাবি করে ওই ঘটনায় আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ছয়জন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গত বুধবার নিম্ন আদালতে হাজির হলে উচ্চ আদালত থেকে জামিনসংক্রান্ত কাগজ নিম্ন আদালতে না পৌঁছানোয় তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে ওই ছয় নেতার মুক্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় মানববন্ধন করেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা জেলা সংসদের নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচিতে সংগঠনের সহসভাপতি শাকিল হোসেন, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ রাব্বি, দপ্তর সম্পাদক রাহাত হোসেন ও সাভার উপজেলা কমিটির সভাপতি শিমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

একই দাবিতে বিকেলে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাভার উপজেলা শাখা। এতে সাভার উপজেলা শাখার সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদা বেগম সাজু, ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি সুকান্ত শফি চৌধুরী কমল, উপজেলা বাম জোটের সমন্বয়ক সৌমিত্র দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিপিবির ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি সুকান্ত শফি চৌধুরী কমল বলেন, ‘কারাগারে থাকা ছয় শ্রমিকনেতা সাভার অঞ্চলে শ্রমজীবী রিকশাশ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই ও আন্দোলন করে আসছেন। সম্প্রতি রিকশাশ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায় এবং ১০ জনের নামে মামলা করে। নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই রিকশাশ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছেন। আমরা দ্রুত তাঁদের মুক্তির দাবি জানাই।’

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ আদালত ছয় সপ্তাহের জন্য জামিন দিলেও আদালত থেকে জামিনের কাগজপত্র না আসায় বিচারিক আদালত সেটি বাতিল করে ছয় শ্রমিকনেতাকে কারাগারে পাঠান। এ মামলা জামিনযোগ্য ছিল। যৌক্তিক দাবি আদায়ে শ্রমিকনেতারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।