মতিয়ার চৌধুরী।শারিরিক মানষিক নীপিড়নের পাশাপাশি এবার ভাষার উপরও আঘাত করছে চীন। মাতৃভাষার পরিবর্তে চীনা ভাষায় কথা বলতে বাধ্য করা চচ্ছে উইঘুর মুসলিমদের। রেডিও ফ্রি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জিনজিয়াং  প্রদেশে উইঘুর বন্দীদের  কথা বলতে এবং আত্মীয়দের সাথে মাসিক ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাদের মাতৃভাষার পরিবর্তে চীনা ভাষায় কথা বলতে বাধ্য করা হয়, এর ব্যতিক্রম হলে বন্ধিদের উপর নেমে আসে শারিরিক  অত্যাচার।

ইউরোপে বসবাসকারী একজন উইঘুর আরএফএকে জানিয়েছেন  তার ভাইবোনদের সানজি শহরের সানজি কারাগারে (চীনা ভাষায়, চাংজি) সম্প্রতি আকসু (আকেসু) এর অন্যান্য আত্মীয়দের সাথে অনলাইনে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও কারাগারে থাকা উইঘুর বা তাদের পরিবারের সদস্যরা চীনা ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্থ নয়, কারাকর্তৃপক্ষ তাদের পুরো বৈঠকের জন্য ম্যান্ডারিনে যোগাযোগ করতে বাধ্য করেছিল।

“তারা সবেমাত্র চীনা ভাষায় কথা বলতে শিখছে তবে সকলের পক্ষে চীনা ভাষায় কথা বলা সম্ভব নয় ।  ইউরোপে বসবাসকারী এই উইঘুর ব্যক্তি তার আত্মীদের বরাত দিয়ে  জানান “এটি কোন বিচ্চিহ্ন ঘটনা নয়।” চীনা কর্তৃপক্ষ বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে খর্ব করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্কুল ও সরকারি কমপ্লেক্সে উইঘুর ভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।তবে উইঘুর পরিবারগুলি এখনও তাদের বাড়িতে তাদের মাতৃভাষা কথা বলে। মাসিক ভার্চুয়াল  ভিজিটগুলিতে বন্দি এবং তাদের আত্মীয়দের সাথে  এমনটি করা হয়।

কারাগারে আটক উইঘুর বন্দিরদের উপর চীন সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞা  তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন হতাশার মাত্রা যোগ করেছে।  বিদেশে বসবাসরত উইঘুর মুসলিমরা তাদের  ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তুরস্কে বসবাসকারী আরেক উইঘুর নির্বাসিত আরএফএকে জানিয়েছেন  যে তার ভাগ্নে, যিনি উরুমকি (উলুমুকি) কারাগারে সাজা ভোগ করছেন, তাকে তার মা এবং দাদীর সাথে চীনা ভাষায় কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে অনুবাদ করার জন্য অন্য আত্মীয়ের উপর নির্ভর করতে হয়েছিল তাদের  কারণ তিনি

ম্যান্ডারিন জানতেন না। এই উইঘুর প্রবাসী আরো জানান  ‘‘ কয়েক মাস পর  মাত্র তিন মিনিটের জন্য অনস্ক্রিনে দেখা করার অনুমতি দেয়, কারা কর্তৃপক্ষ” । “আমার মা একবার আমার ভাগ্নের সাথে অনস্ক্রিনে দেখা করতে এসেছিলেন কারাগারে । আমার ভাগ্নে তাদের সাথে চীনা ভাষায় কথা বলতে শুনে আমার মা খুব  বিব্রত বোধ করেন কেননা তিনি চীনা ভাষা বুঝেননা। আমার ভাগ্নের স্ত্রী তখন অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তাকে শুধুমাত্র চীনা ভাষায় কথা বলতে শুনে।”অন-স্ক্রীনে, ঐতিহ্যবাহী চীনা ফ্যাশনে বিদায় জানিয়ে পিছনের দিকে হাঁটার সময় আমার ভাগ্নেকে মাথা নত করতে হয়েছিল,” ।