৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চলমান চা-শ্রমিকদের ধর্মঘট নিরসনে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে আগামীকাল বুধবার ঢাকায় দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করবে শ্রম অধিদপ্তর। এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকনেতারা।

চা-শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা পরাগ বারই, সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, সহসভাপতি পংকজ কন্দ, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) নিপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দিসহ বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভিন্ন ভ্যালির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা চা শ্রমিকদের

দুপুরের বিরতি দিয়ে বিকেলে আবার আলোচনায় বসেন তাঁরা। সেখানেও কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে পেরে দুই পক্ষকে নিয়ে ঢাকায় সভা করার সিদ্ধান্ত নেন মহাপরিচালক।

চা শ্রমিক ধর্মঘট: ১ দিনে ক্ষতি ৩০ কোটি টাকা

সভায় চা-শ্রমিক নেতারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তুলে ধরেন। সভায় শ্রমিক নেতারা বলেন, চা-শ্রমিকেরা ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকেরা হিমশিম খাচ্ছেন। ভালো খাবার কেনার টাকা তাঁদের নেই। সন্তানদের পড়ালেখা করানোর জন্য বিভিন্নভাবে ঋণ করতে হয়। চা-বাগানের চিকিৎসাব্যবস্থা খুবই খারাপ। কোনো রোগী অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। গত করোনাকালীন সবকিছু যখন বন্ধ, তখন চা-শ্রমিকেরা জীবন বাজি রেখে চা–শিল্পের জন্য কাজ করেছে। কোনো চা-বাগান করোনার সময় বন্ধ হয়নি।