ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চাওয়া  রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলে মন্তব্য করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে’–এমন মন্তব্যের জেরে শুক্রবার এক বিবৃতিতে গণতন্ত্র মঞ্চ এ কথা জানিয়েছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে জোনায়েদ সাকির পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবৈধ ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চাওয়া  রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। যদিও ২০১৪ সালের আগেই বাংলাদেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে ভারত সরকারের খোলাখুলি ভূমিকা বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু এতদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকার মুখে এগুলো অস্বীকার করলেও এখন জনরোষে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নিজেদের আসল চেহারা উন্মোচন করে দিয়েছে।

বিবৃতিতে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য নয়। পুরো বক্তব্য সুচিন্তিতভাবেই তিনি বলেছেন এবং এটা যে সরকারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধী এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে রাষ্ট্রের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার নামান্তর।

নেতারা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের হাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যে নিরাপদ নয় এটা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি। আজকে সেটা নতুন করে মানুষের সামনে সরকার নিজেই প্রমাণ দিল।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে অন্য কোন শক্তি নয়।

বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার জন্য গণজাগরণ ও গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদি সরকারকে পতনের লক্ষ্যে জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার  জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা।