খুলনার সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের জন্য বিএনপি নেতা দুদুর দুঃখ প্রকাশ

ইমন শেখ, খুলনা:
গত ২৭ শে ফেব্রুয়ারি তারিখে খুলনার সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। শুক্রবার (০৫ মার্চ) রাতে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সহ দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চলের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার খুলনা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এমন কি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে যে হোটেলে থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো সে হোটেল চাপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। যে কারণে ঢাকা থেকে মেজর (অব:) শাহজাহান ওমর বীর উত্তমসহ আমরা খুলনাতে পৌঁছিয়ে সারাদিন এক কাপড়ে খুলনা মহানগর কার্যালয়ে বসে থাকি। এক প্রকার অভুক্ত অবস্থায় আমরা সমাবেশে যোগ দিই।
আমি খুলনা বিভাগের সন্তান। আমি জানি খুলনা বিভাগের মানুষজন খুবই অতিথি পরায়ণ। অতিথিদেরকে তারা বরং আত্মীয় হিসেবে গ্রহণ করে। সেদিন আমরা বড় তিক্তকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। যা আমি আমার ৫০ বছরের অধিক রাজনৈতিক জীবনে কখনোই এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হই নাই। ঘটনাক্রমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় কিছু কৌতুক পূর্ণ শব্দ বা রাজনৈতিক চুটকি ব্যবহার করি। সম্ভবত এই কৌতুক পূর্ণ শব্দ বা রাজনৈতিক চুটকিগুলো আমার প্রতিপক্ষ বন্ধুদের ভালো লাগেনি। হয়তো কেউ কেউ কষ্ট পেয়ে থাকবেন। আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জ্ঞানত: আমি কাউকে সচেতনভাবে কখনো আঘাত করিনি। আমি স্পষ্ট করে আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, আমার বক্তব্যে যদি আপনারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন সেজন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি দুঃখিত। অতীতে আমরা এরশাদের সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তো একসঙ্গে করেছি। রাজনৈতিক বিবেচনায় আমরা যেখানেই অবস্থান করি না কেন, আমরা তো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি। মনে কষ্ট রাখবেন না। আমিও খুলনা বিভাগের সন্তান। আমাকে সেই ভাবেই আপনারা গ্রহণ করবেন এটা আমি প্রত্যাশা করি।
উল্লেখ্য, খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগ শামসুজ্জামান দুদুর ঐ বক্তব্যকে প্রত্যাখান করে। মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ঐ বক্তব্যকে কুরুচিপূর্ণ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের প্রতি অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। শামসুজ্জামান দুদুর বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ মিছিল এবং দুদুর কুশপুত্তলিকা দাহ করাসহ নানারকম প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।