২০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুবরণ করেন। পরে তিন সন্তানের দুজন আলেয়া বেগমকে ছেড়ে চলে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলেকে নিয়ে ইউনিয়নের আবাসনের একটি ঘরে ওঠেন। ভিক্ষা ও মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাজ করতেন। কিন্তু বার্ধক্যের কারণে তার চোখে ছানি পড়েছে। তাই খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মা ও ছেলে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের বাসিন্দা আলেয়া বেগম (৭৪)। তার স্বামী স্বামী জব্বার খাঁ মারা যাওয়ার পর ইউনিয়নের আবাসনের একটি ঘরে ছেলে জাকিরকে নিয়ে থাকেন। শেষ বয়সে কোনো কিছু করতে পারেন না বলে বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জন। টাকার অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। যতই দিন যাচ্ছে, ততই চোখের আলো কমে যাচ্ছে আলেয়ার।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমার ভাইয়ের ছেলে একটা চোখের অপারেশন করিয়ে দিয়েছে। সেটা দিয়ে কোনো রকম আফসা আফসা দেখি। কেউ যদি চোখের অপারেশনটা করিয়ে দিত, দুনিয়াটা দেখতে পারতাম। ছেলেটা কয়টা টাকা ভাতা পায়। তা দিয়ে কি আর সংসার চলে?

আলেয়া বেগমের ছোট ছেলে জাকির বলেন, টাকার অভাবে মায়ের চোখের চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি আগে লেবুখালী ফেরিতে ভিক্ষা করতাম। এখন সেখানে ব্রিজ হয়ে গেছে। এখন আর ফেরি নাই। আমি নিজে প্রতিবন্ধী মানুষ। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারি না। কোনো কাজ করতে পারি না। মায়ের চোখের অপারেশন করানোটা খুব দরকার। এর পাশাপাশি যদি আমার একটা কর্মের ব্যবস্থা হয়, তাহলে দুজনে খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।

প্রতিবেশী মো. বায়জীদ বলেন, অনেক বছর আগে থেকেই প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে আবাসনে বসবাস করছেন বৃদ্ধা। তার ছেলে আগে ভিক্ষা করত। এখন সেতু হয়ে যাওয়ায় সে পথও বন্ধ হয়ে গেছে। কোনোভাবে স্থানীয় বাজারে ভিক্ষা করে দিন চলে যাচ্ছে। আলেয়া বেগম চোখে কম দেখেন, কানেও কম শোনেন। স্থানীয়রা যতটা পারছে সহযোগিতা করছে। তবে কেউ যদি দুজনের একটা উপায় করে দিত, তাহলে কষ্ট দূর হতো।

প্রতিবেশী আরোতি রানী দাস বলেন, মাঝেমধ্যে রাস্তায় হাঁটতে গেলে পড়ে যায়। আমরা উঠিয়ে ঘরে দিয়ে যাই। আমাদের এই আবাসনের মধ্যে সে অনেক কষ্টে আছে। আর্থিক অবস্থা ভালো না। ছেলে একটা প্রতিবন্ধী। আপনারা যদি চোখের অপারেশনের ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে অনেক ভালো হয়।

এ বিষয়ে আলেয়া বেগমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার ছেলে জাকিরের ০১৭৭৯০৩৭৭৩০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।