কুমিল্লা নগরীর সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন এবার চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার


কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীতে বিজিবি সদস্য হত্যা, ছিনতাই, অস্ত্র-মাদক, নাশকতাসহ প্রায় এক ডজন মামলার আসামি সন্ত্রাসী মহিউদ্দিনকে এবার চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে নগরীর উত্তর চর্থা এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
মহিউদ্দিন নগরীর ১২ নং ওয়ার্ডের উত্তর চর্থা এলাকার তফাজ্জল হোসেন ইদু মিয়ার পুত্র। বুধবার দুপুরে চাঁদাবাজি মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীতে ছিনতাইকারী ও একটি চোর সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে পুলিশের তালিকায় মহিউদ্দিনের নাম ছিল। পরে ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর বিকালে বিজিবি সদস্য রিপন হত্যা, ২০১৪ সালে এক গরু ব্যবসায়ীর ৩১ লাখ টাকা ছিনতাই ও ২০১০ সালে এক কলেজ শিক্ষকের টাকা ছিনতাইসহ নগরীতে কয়েকটি আলোচিত ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় স্থান পায় তার নাম। তার নেতৃত্বে নগরীতে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে যায়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে নগরীতে একাধিক ছিনতাই ছাড়াও প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র নিয়ে বাসা-বাড়িতে হামলা, নাশকতাসহ আরও অনেক ঘটনা ঘটে। অনেকেই বয়ে মামলা করার সাহস পেত না। গত বছরের ২২ জুন রাতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর রুমা আক্তার সাথীর নগরীর নানুয়াদিঘীর পাড় এলাকার বাড়িতে দলবল নিয়ে মহিউদ্দিন গুলি ও হামলা চালায়। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কয়েকটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও জামিনে এসে পূনরায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে যায় মহিউদ্দিন।
সর্বশেষ মহিউদ্দিন কিছু দিন ধরে নগরীর উত্তর চর্থার নবাব বাড়ি চৌমুহনী এলাকার ছাব্বির আহম্মদ শুভ নামের এক ব্যবসায়ীর নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে (২ মার্চ) মহিউদ্দিন তার লোকজন নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাংচুরসহ পরিবারের সদস্যদের মাধর করা হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী স্ত্রী নুসরাত ফারহানার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গভীর রাতে ডিবি ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করে।
বুধবার দুপুরে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, নগরীর একজন ব্যবসায়ীর নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দায়েরকৃত ব্যবসায়ী পরিবারের মামলায় মহিউদ্দিনকে দুপুরে আদালতে সোপর্দ করার পর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিজিবি সদস্য রিপন হত্যা, নাশকতা, ছিনতাই, অস্ত্র, মাদক, হত্যার চেষ্টাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে জামিনে থাকলেও তার বিরুদ্ধে আসা অন্যান্য অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।