২০১০ সাল থেকে কাবুল বিমানবন্দরে কাজ করছেন রাবিয়া। বাধা না পাওয়া পর্যন্ত এ কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। রাবিয়া বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আফগানিস্তানের সবচেয়ে ধনী নারী হওয়া। আর ভাগ্য সব সময় আমার সঙ্গেই থেকেছে। যত দিন কপাল ভালো থাকবে, তত দিন আমি পছন্দের কাজ চালিয়ে যাব।’

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে কাবুল বিমানবন্দরে কাজ করতেন ৮০ জনের বেশি নারী। তবে এখন কাজে ফিরেছেন মাত্র ১২ জন। গতকাল শনিবার তাঁদের ছয়জনকে বিমানবন্দরের প্রধান ফটকে নারী যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এই কর্মীদের মধ্যে ছিলেন রাবিয়ার বোন কুদসিয়া জামালও। ৪৯ বছর বয়সী এই নারী জানান, আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল তাঁকে ‘হতবাক’ করে দিয়েছে।

কুদসিয়া জামালের পাঁচ সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। কুদসিয়া বলেন, ‘আমি খুব ভয়ের মধ্যে ছিলাম। আমাকে নিয়ে পরিবার শঙ্কার মধ্যে ছিল। তারা আমাকে কাজে ফিরতে মানা করেছিল। তবে আমি এখন অনেকটা নিশ্চিন্তে আছি। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার মুখে পড়িনি।’

কাবুল বিমানবন্দরে রাবিয়ার আরেক সহকর্মী জালার স্বপ্নটা অবশ্য ভিন্ন। তালেবানের কাবুল দখলের পর থেকে তিন সপ্তাহ ঘরবন্দী হয়ে ছিলেন এই নারী। এর আগে থেকেই শিখছেন ফরাসি ভাষা। বিমানবন্দর থেকে ভাঙা ভাঙা ফরাসি ভাষায় তিনি এএফপিকে বলেন, ‘শুভ সকাল, আমাকে প্যারিসে নিয়ে যান।’ তাঁর এমন কথায় বাকিরা হেসে উঠলে তিনি আবার বলেন, ‘তবে এখন যাব না। কারণ, বিমানবন্দরে আজ হাতে গোনা যে কয়জন নারী কর্মী রয়েছেন, তাঁদের একজন আমি।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের সরকারের অধীনে নারী অধিকারের চরমভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এবার এসে এ বিষয়ে অনেকটা সুর নরম করেছে তারা। তবে তালেবানের কাজের সঙ্গে আদতে কথায় মিল নেই বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘের নারীবিষয়ক মুখপাত্র অ্যালিসন ডাভিডিয়ান। তিনি বলেন, তালেবান এর মধ্যেই নারী অধিকারের বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ভাঙা শুরু করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here