নাটোরে কলেজ ছাত্রকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের লাশ তার শোয়ার ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নাটোর থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ জানান, রোববার সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকার মোল্লা ম্যানশন ভবনের চারতলার ভাড়া বাসা থেকে প্রতিবেশীরা খায়রুনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

৪২ বছর বয়সী খায়রুন নাহার নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ডিগ্রী কলেজে দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে।

এ ঘটনায় তার কলেজছাত্র স্বামী ২৩ বছর বয়সী মামুন হোসেনকে আটক করা হয়েছে বলে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

বাড়ির মালিক নান্নু মোল্লা বলেন, “সকালে মামুন আশপাশের লোকজনদের জানায় যে, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। পরে স্থানীয়রা তার বাসায় গিয়ে শোয়ার ঘরের মেঝেতে খায়রুনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

“এ সময় সন্দেহ হলে তারা মামুনকে আটক করে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে খায়রুনের লাশ উদ্ধার করে এবং মামুনকে থানায় নিয়ে যায়।”

মোল্লা ম্যানশনের দায়োয়ান নিজাম উদ্দিন জানান, খায়রুন ‘আত্মহত্যা করেছেন’ বলে তার স্বামী মামুন স্থানীয়দের জানিয়েছে। তবে তিনি কীভাবে আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি সে।

পুলিশ জানায়, খায়রুনের দ্বিতীয় স্বামী মামুন একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামেরর মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর এক ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই থাকতেন খায়রুন। পরে ফেইসবুকে মামুনের সঙ্গে পরিচয়ের ছয় মাস পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে গোপনে তাকে বিয়ে করেন খায়রুন।

বিয়ের ছয় মাস পর গত জুলাই মাসে ঘটনাটি জানাজানি হলে দেশ জুড়ে আলোচনায় আসেন এই দম্পতি।

ওসি নাছিম বলেন, ওই শিক্ষিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।