পূর্ণদৈর্ঘ্য যন্ত্রণা
রফিকুল নাজিম

আজকাল তোমার নাম্বারে কল যায় না
তুমি কি আমারে ব্ল্যাক লিস্টে রাখছো?
ডাকবাক্স ত সেই কবেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে
তোমার ঠিকানাও তুমি বদলে ফেলেছো ঋতুর মত।
ইদানীং ম্যাসেঞ্জারে ঢুইক্যা দেহি আমি ব্লকড
ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে আমার প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত!

আচ্ছা- চাইলেই কি মনের মানুষকে ভোলা যায়?
রাত গভীর হলে তুমিও কি বারংবার ইনবক্স চেক করো
মেসেজের অপেক্ষায় তুমিও কি নির্ঘুম রাত পাড়ি দাও
গলাকাটা কবুতরের মত ছটফট করো অস্থিরতায়?
হঠাৎই আমার শূন্যতায় ঠুকরে ঠুকরে কাঁদো?
এসব শুধুই আমার কল্পনা;
নাকি ছেলেমানুষী আবেগের বড্ড বাড়াবাড়ি?

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ
রফিকুল নাজিম

কবির বুকে চারু ব্যথা
কবি তার বুক ডাক্তারকে দেখালেন
কবির ঠোঁট ও দাঁত দেখে ডাক্তার বললেন,
‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ নিকোটিন ও এলকোহল মৃত্যুর কারণ।’
কবি মুচকি হেসে বললেন, ‘দুর! এইগুলা আজাইরা কথা। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ প্রেমিকার চোখ ও ঠোঁট প্রেমিকের মৃত্যুর কারণ।

আগুনে পুড়লে অন্ততঃ ছাই পাওয়া যায়,
প্রেয়সী যদি পোড়ায় অস্তিত্ব পাওয়া দায়।

সূর্যালোক, ছায়া ও বিচ্ছেদ
রফিকুল নাজিম

রৌদ্রস্নাত পাতায় খাদ্যের উৎপাদন চলে হরদম
বিশুদ্ধ বায়ুর সনদপত্র লেখে সৌম্য সূর্যালোক
অক্সিজেন আর কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ইকুইলিব্রিয়াম।
তবুও মানুষ মেঘের প্রার্থনায় কাতর হয়; ছায়া চায়,
ঈশ্বরমুখী গণমানুষ ব্যাঙের বিয়ে দেয়;
বৃষ্টির জন্য ভিক্ষা মাগে।

রৌদ্রের প্রখরতায় একদিন পাশের মানুষও পালিয়ে যায়
গনগনে মধ্যাহ্নে মানুষ কেবল নিজেরই ছায়া খুঁজে পায়।

জন্মান্তরে শুধু তোমাকে চাই
রফিকুল নাজিম

তুমি একবার আমাকে ডাকলে
চৈতালি হাওয়ার মত আমি বড্ড এলোমেলো হয়ে যাই
একবার তুমি আমার চোখে চোখ রাখলে
সারা পৃথিবীকে আমার কাছে মনে হয় সরিষার মাঠ;
আউলা ঝাউলা বাতাসে অনুভূতির ক্রমাগত চক্কর
তুমি একবার আমাকে ‘ভালোবাসি’ বলতেই
আমি তাসের ঘরের মত হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ি।
তুমি একবার আমাকে ছুঁয়ে দিলে
তখন আমি আর আমার থাকি না,
আগুনের উত্তাপে মোম যেমন গলে গলে উদ্বায়ী হয়
তোমার স্পর্শের ভেতর আমিও আমাকে হারিয়ে খুঁজি;
জন্মান্তরে আমি শুধু তোমার হয়ে যাই।

প্রহসন

রফিকুল নাজিম

‘ভাত দে কাপড় দে
নাইলে গদি ছাইড়া দে’
মিছিলে স্লোগানে প্রকম্পিত হলে শহরের প্রধান সড়ক,
অলিগলি, সংসদ ভবন, এভিনিউ, পার্টি অফিস
মিছিল দিলে ভুখাদের একবেলা ডাল ভাতের জোগাড় হয়।
ভুখা মানুষগুলো গলা ফাটিয়ে মিছিল করে
টিয়ার শেল খায়, লাঠির পেঁদানি খায়
পুলিশ ও গদিওয়ালা বাহিনীর লাত্থি উষ্ঠা খায়
মাঝে মাঝে বুলেটও খায়; রক্ত ঝরে এবং মরে।

ভুখাদের রেট নেহাত কম নয়
ত্রিশ চল্লিশ পঞ্চাশ থেকে একশো টাকা
নানান ক্যাটাগরি আছে
লাইনের বিষয় আছে
গলা ও স্লোগান আরো গুরুত্বপূর্ণ…

শহুরে বস্তির জুলমত স্লোগান ধরে
সমস্বরে আকাশ ভাঙে টোকাই দল ও উদ্বাস্তু শহরবাসী।
একদিন গদির পরিবর্তন হয়
শুধু ভুখা মানুষগুলোর রেট আর বাড়ে না
গরম ভাতের প্লেটে ভরা থাকে রাজনৈতিক প্রহসন!

 

(কবি রফিকুল নাজিম,উপজেলা শিক্ষা অফিস,মাধবপুর, হবিগঞ্জ)।