লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ প্রদান নিয়ে কিছু অসত্য প্রচারণা, সংবাদ প্রকাশ এবং আজকের (২৮ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ইসি কমিটির নজরে এসেছে। এর জবাবে গতকাল (সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভার বক্তব্যের সার-সংক্ষেপে নীচে তুলে ধরা হলো-

ক্লাবের সদস্যপদ প্রদানকে কেন্দ্র করে সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী তৎপরতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাহী কমিটি পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহবান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইনকানুন, ক্লাবের সংবিধান এবং চ্যারিটি কমিশনের নির্দেশনা মেনেই চলছে ক্লাবের কার্যক্রম ।

ক্লাব কর্তৃপক্ষ বলেন, ক্লাবের বিরুদ্ধে এই মানহানীকর তৎপরতায় আমরা উদ্বিগ্ন। কোনো আইনি বা সাংবিধানিক যুক্তি ছাড়াই ক্লাবের সুনাম নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ডে যারা লিপ্ত রয়েছেন তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

এটি সকলের জানা থাকা ভালো যে, ইতোমেধ্যে চ্যারিটি কমিশন প্রেস ক্লাবের সাম্প্রতিক সব সংশোধনী অনুমোদন করেছে। আমাদের গঠনতন্ত্রে মেম্বারশীপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ইসি কমিটির চূড়ান্ত এখতিয়ার দেওয়া আছে। এরপরও অসফল আবেদনের ক্ষেত্রে যথাযথ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। ১৫ জন সদস্য সম্মিলিতভাবেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই অনাকাংখিত তৎপরতায় যুক্তদের একাধিক ইতিমধ্যে স্বাক্ষর অভিযান করেছেন এবং ক্লাবকে সলিসিটার নোটিশও দিয়েছেন। দুটি ক্ষেত্রেই কোনো সমাপ্তি না টেনে এখন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে আত্মঘাতী কাজে লিপ্ত হয়েছেন তারা যা খুবই দু:খজনক।

ইসি কমিটির সভায় বলা হয়, ক্লাবের ৩২০ জন সদস্যের দু‘চারজন ছাড়া সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করছেন। এতো বিভ্রান্তিমূলক আয়োজনের পরও তাদের এই বিচক্ষণতা আমাদের আশাবাদী করেছে। আমরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। অন্যদিকে মাত্র কয়েকজন সদস্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে মাঝপথে রেখে জনসমক্ষে প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরীন বিষয়ে গল্প-কাহিনী ছড়াচ্ছেন। কিছু পত্রপত্রিকাও সাংবাদিকতার নূন্যতম নীতিমালা এবং নিয়ম-কানুনকে অগ্রাহ্য করে এক তরফাভাবে সেসব অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ ছাপছে।

কী হচ্ছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ভিতরে ?

মিথ্যাশ্রিত প্রচারণায় চাতুর্যের সাথে নাম উল্লেখ না করে বলা হচ্ছে, ১২ জন মেম্বারের আবেদন রিনিউ করা হয়নি অন্যায়ভাবে এবং তাদেরকে আপিলের সুযোগও দেয়া হয়নি। কিন্তু তাদের নাম প্রকাশিত হলেই সবাই স্পষ্ট বুঝতে পারবেন কেনো তারা মেম্বার হতে পারেননি। এদের মধ্যে অন্যের লেখা নিজের নামে ছাপিয়ে সেটি জমা দেয়ার লোকও আছেন, কাজের প্রমাণহীন সাংবাদিকও আছেন।এই ক্লাবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচনপূর্বক মেম্বারশীপ তালিকা প্রকাশ হলে, তা-ই চুড়ান্ত থাকে। নির্বাচনের কিছুদিন পরই আবারো মেম্বারশীপ প্রক্রিয়া উন্মুক্ত হয়। তখন যেকেউ যথার্থ যোগ্যতা নিয়ে নিয়মমতো আবারো পূর্ণ বিবেচনার সুযোগ নিতে পারবেন।

পেন্ডিং-এ থাকা চার জন মেম্বারের বাস্তবতা আলাদা। তারা সক্রিয় সাংবাদিক। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ঊঠছে না। এসজিএম-এ পাশ হওয়া সংবিধানের নতুন নিয়ম দলীয় রাজনীতির শীর্ষ পদে থাকাদের মেম্বারশীপ লাভে বাধার সৃষ্টি করায় তারা এই সমস্যায় পড়েছেন। তবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশী প্রধান দলগুলোর ৫জন শীর্ষ নেতা নতুন সংবিধানের আলোকে স্ব স্ব পদ ত্যাগ করে ক্লাবে যুক্ত থেকেছেন। আর তিনটি বড় দলের তিন জন প্রধান পদের নেতা পদত্যাগ না করলেও ক্লাবের প্রতি ভালোবাসার জানান দিতে এসোসিয়েট মেম্বার হয়েছেন। ক্লাবের সংবিধান তথা মর্যাদা রক্ষার ইতিহাসে এই ৮ জনের নাম লেখা থাকবে শ্রদ্ধার সাথে। আর মাত্র ৪জন শীর্ষ নেতা স্ব স্ব পদ ত্যাগ করতে কিংবা এসোসিয়েট মেম্বার হতে রাজী হননি, যাদেরকে বিবেচনার জন্য পেন্ডিং রাখা হয়। আগামীতে কখনো গঠনতন্ত্রের মেম্বারশীপ বিধিতে অথবা তাদের দলীয় পদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এলে তারা সকলেই “ফুল মেম্বার“ হবার সুযোগ পেতে পারেন, সেটিও তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে, পেন্ডিং আবেদনগুলোর ব্যাপারে যথাসম্ভব দ্রুত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাহী কমিটি।

এটা ঠিক যে, এবারও কিছু আবেদনকারী সদস্য হিশেবে সফলকাম হননি। এবার মেম্বারশীপের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু পলিসি কারো কারো জন্য মেম্বারেশীপের যোগ্যতা প্রমাণে বাড়তি চাপও সৃষ্টি করে। কিন্তু তারা ধৈর্য ধরে ক্লাবের সাথে সম্মানজনক যোগাযোগে থাকলে এবং নিজেদের মিডিয়া সক্রিয়তা নিশ্চিত করলে আবারো যুক্ত হতে পারেন সহজেই। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে, কিছু সদস্য এসব যুক্তিসঙ্গত কথাবার্তা উপেক্ষা করে আক্রোশবশত আত্মঘাতি তৎপরতা শুরু করেছেন। আর এতে সরলমনা মানুষজনকে ব্যবহার করছেন।

প্রেস ক্লাবের বিরুদ্ধে যুক্তিহীন ও মিথ্যাশ্রিত প্রচারণা এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানায় নির্বাহী কমিটি। এ নিয়ে সামগ্রিক বিষয়টি একটু যাচাইবাছাই করতে আমাদের ওয়েবসাইটে (LONDON BANGLA PRESS CLUB) থাকা সংবিধান এবং মেম্বারশীপ পলিসি দেখে নেওয়ার আহবান জানানো হয়।

এবারের মেম্বারশীপ যাচা্ই-বাছাই সংক্রান্ত কিছু সহায়ক তথ্য

মেম্বারশীপ: নতুন চর্চার সূচনা
সামগ্রিক বাস্তবতায় যতোটুক সম্ভব যারা মিডিয়ায় নূন্যতম যুক্ত আছেন, নিউজ/কারেন্ট এফেয়ার্সে সক্রিয় আছেন, তাদেরকে মেম্বারশীপ দিয়ে ক্লাবকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলেছে। আবার যার খুব কম সম্পৃক্ততা অথবা সম্পক্তৃতা প্রায় নেই তেমন আবেদনকারীর ব্যাপারে পুরো ইসি কমিটি মিলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসজিএমসমূহে সম্মানিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত নীতিমালাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে সর্বসম্মতভাবে সেটিই করা হয়েছে।

সংবিধানে সব সময় বলা হয়েছে, নূন্যতম দু’বছরের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। শুধু নিজ থেকে বল্লেই হবে না। এক্ষেত্রে সততা ও নীতি অনুসরণ হচ্ছে মূল। কিন্তু এবার সংবিধানের বর্ধিত ও সুনির্দিষ্ট পলিসি বেশ সহায়ক হয়েছে। সবার জন্যই কীভাবে কাজ করেছেন তার প্রমাণাদি প্রদান বা লিখিত ও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা। ৫টি রিপোর্ট জমা দেয়াসহ কিছু পলিসির কারণে যাচাই-বাছাইয়ে অনেক বেশী কাজ করতে হয়েছে। নানা যুক্তিসংগত কাণে বহু নতুন আবেদন বিবেচিত হয়নি। বিশেষ করে অনলাইনের ক্ষেত্রে কিছু ধারা অনুসরণের কারণে বহু আবেদন গ্রহণ করা যায়নি। প্রথমবারের মতো কিছু কিছু আবেদন বাতিল হয়, হুবহু আরেকটি পত্রিকার নিউজ/ফিচার হেডলাইনসহ নিজের নামে জমা দেয়ার কারণে। অথচ অনলাইনে হেডলাইনটি লেখার পরই দেখা যাচ্ছে লেখাটি কোনো নামিদামি পত্রিকায় আরেকজন কষ্ট করে লিখেছেন।

ইসি-র সম্মিলিত সিদ্ধান্ত
মেম্বারশীপের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে হাত তুলে মেজরিটি খোঁজা হয়নি। সব সিদ্ধান্ত হয়েছে সম্মিলিতভাবে। অনুমোদিত বা প্রত্যাখ্যাত দুটি ক্ষেত্রেই মাঝে মধ্যে আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু ক্লাবের দায়িত্বশীল হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে সামগ্রিক নীতি ও মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে। শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উর্ধ্বে উঠে সঠিকভাবে পর্যালোচনা করে এবং সুনির্দিষ্ট পলিসি দেখে মেম্বারশীপ গ্রহণ-বর্জনের এই চর্চাটি একদিনে শক্তিশালী হবে না। কিন্তু আমরা আশাবাদী, দিনে দিনে এই প্রক্রিয়ায় আরো উন্নতি হবে, আরো বেশী বিবেক ও নীতিবোধের চর্চা হবে।

মেম্বারশীপ পলিসি খেয়াল করা ও ফরম পুরণ
কিছু আবেদনকারী মেম্বারশীপ পলিসি পুরোপুরি হয়তো দেখেননি। ফরমেও যে নির্দেশনা আছে তা খেয়াল করেননি। ক্লাবের ফাউন্ডিং মেম্বার ও মুক্তিযোদ্ধা মেম্বারের বেলায় বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া প্রবীণ নবীন সবার জন্যই কিছু না কিছু নিয়ম অনুসরণ করার কথা ছিলো। যারা লেখা/রিপোর্ট অর্থাৎ প্রমাণাদি দেননি, তাদেরকেও একটি নীতিমালা মানার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে ১৫ বছর বা তার চেয়ে বেশীদিন ধারাবাহিকভাবে এই পেশায় থাকলে এই ধারাবাহিকতার যথার্থ সময়ক্রম দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ কেউ এসব খেয়াল করেননি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী জমা না হলে আবেদন গ্রহণ করা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here