দেশের কোথাও গণ অধিকার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা-মামলা হলে আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে রাজপথে জবাব দেবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকেলে লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনাসহ পাঁচ দফা দাবিতে গণ অধিকার পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

নুর বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এখন থেকে আমরা রাজ পথেই এই হামলার জবাব দেবো। বর্তমান সরকারের চারিত্রিক অধঃপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বর্তমান সংকট কোনো রাজনৈতিক সংকট নয়। এটি ১৮ কোটি মানুষের সংকট। এ সংকট সমাধানে ১৮ কোটি মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার এখন সংক্রামকে পরিণত হয়েছে। এ সংক্রামকের প্রতিষেধক না নিলে বছরের পর বছর জনগণকে গ্লানি টানতে হবে। সংক্রামকের প্রতিষেধক হলো রাজপথ। রাজপথেই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব বলেন, প্রশাসনকে বলবো সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালন করে আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে যাবেন না। সভা-সমাবেশ করার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। কুমিল্লা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এ ছাত্রদের গায়ে হাত তুলেছেন, তাদের হাত পুড়ে যাবে। জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। যেখানেই হামলা হবে, সেখানেই প্রতিরোধ করবো।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগকে বলবো ফ্যাসিবাদের গোলামি ছাড়ুন। রাজপথ কারও একার নয় যেখানে যে দল যেদিন সভা-সমাবেশ করবে সেদিন রাজপথ তাদের। সবাইকে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

‘আওয়ামী লীগ দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদলের আন্দোলন না থাকায় আওয়ামী লীগ এখনো হাস্যরস করছে। তাদের ঔদ্ধত্য শেষ। বিরোধীদল এক হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিতে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, টাকা পাচার করে দেশকে ঋণগ্রস্ত করেছে সরকার। আওয়ামী লীগের পতন হলে ঋণের গ্লানি টানতে হবে পরবর্তী সরকারকে, টানতে হবে দেশের জনগণকে। তাই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।

সমাবেশে ড. রেজা কিবরিয়াসহ গণ অধিকার পরিষদ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।