উপজেলা উপ-নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বাতিলের দাবি

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, বিভিন্ন এজেন্টদের গায়ে শারীরিকভাবে আঘাত, ভোট জালিয়াতি, নির্বাচন কমিটি ও প্রশাসনের নিশ্চুপ আচরণ ও নির্বাচন বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দাবী করা হয়েছে  “প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোট দিয়েছে ছাত্রলীগ’ সোমবার সকালে ভাড়াউড়া চা বাগানে  এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়।
পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নুর মিয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা, খাইছড়া চা বাগান সভাপতি পুস্ব পায়ংকা, প্রেম সাগর হাজরা প্রমূখ। এসময় প্রতিবাদ ও মানববন্ধন সভায় প্রায় তিনশোর মতো চা-শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও দখল করে রেখে জাল ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। তাঁদের কর্মী মোহন রবি দাশকে নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা মারধর করে। এতে মোহন রবি দাশের মাথা ফেটে যায়। এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
প্রতিবাদ সভায় নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবং নির্বাচনের দিন কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জনকারী দুই প্রার্থীর একজন প্রেম সাগর হাজরা বলেন, এই উপনির্বাচনের দিন শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি কোন ভোটাররা ছিল না। তারা সকাল থেকেই জাল ভোট দেওয়া শুরু করে দেয়। কেন্দ্রগুলোতে তেমন কোন ভোটারের উপস্থিতি ছিল না। শুধু ছাত্রলীগ ও যুবলীগদের দেখেছি যাঁরা পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসারের সামনেই জাল ভোট দিয়েছে। আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ফিরে আসুক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জনগণের মা। আমাদের মা, আপনি একমাত্র পারবেন এই নির্বাচন বাতিল করে একটা সুষ্ঠ নির্বাচন দিয়ে জনগণের আস্তা ফিরিয়ে আনতে।
তিনি আরো বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই এই উপনির্বাচন ভালো করে তদন্ত করে আবার পূর্ন নির্বাচন দেওয়া হোক এবং এই ভোট বাতিল করে এবং পূর্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার দাবী জানাই।
উল্লেখ্য, গত সাত তারিখ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ শুরু হয় তবে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন চোখে না পড়লেও দুপুর দুইটা থেকে অস্থির হয়ে উঠে ভোটের মাঠ। নৌকার পক্ষে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে কয়েকটি ভিডিও। যাতে প্রমাণ মিলে এইসব অভিযোগের। এরই মধ্যে ভোটের শেষ সময়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন দুই স্বতত্র প্রার্থী প্রেম সাগর হাজরা ও আফজল হক।
তবে দিন শেষে ভোট গননার পর বিজয়ী ঘোষনা করা হয় আওয়ামীলীগের প্রার্থী ভানু লাল রায়কে।  তিনি ৫৮ হাজার ৩০৫ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নির্বাচন বর্জনকারী  প্রেমসাগর হাজরা আনারস প্রতীক নিয়ে পান ৩৩ হাজার ২৮৩ ভোট।
নির্বাচনে মিজানুর রব লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পান ৭৯৪ ভোট এবং আফজল হক ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৪৪৬ ভোট পান। তিনিও কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। নির্বাচনের তিন দিন আগে নৌকার প্রতিদন্ধী দুই প্রার্থী মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচনে কারপি হবে এবং দুপুর দুইটা থেকে কেন্দ্র দখল করার পরিকল্পনা করে নৌকাকে জিতানোর কৌশল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
এবং ভোটের দিনেও একই অভিযোগ করে তারা বর্জন করেন। সেদিন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেমসাগর হাজরা অভিযোগ করেন, সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা প্রভাব বিস্তার করে রাখেন। দুপুরের পর থেকে নৌকার প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকেরা কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেন। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। বেলা তিনটার দিকে দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনে তাঁর এক কর্মী মোহন রবি দাশকে নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা মারধর করেন।মোহনের মাথা ফেটে রক্ত বের হয়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘চা-শ্রমিকেরা বারবার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসছেন। আমি চা-শ্রমিকের সন্তান হয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যাঁদের বারবার ভোট দিয়ে বিজয়ী করি, তাঁরাই আমাদের এই নির্বাচনে কারচুপি করে পরাজিত করতে নীলনকশা করেছেন।’
এদিকে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও আলোচনা থামছেনা এই নির্বাচনকে ঘিরে। ভোট কেদ্রের অস্থিরতার ভিডিও ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ প্রার্থীদের নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনের দিন এই প্রতিবেদক উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা তপন জ্যোতি অসিমের কাজে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে কয়েকটি কেন্দ্রে সামান্য ঝামেলা হয়েছে স্বীকার করেন পাল্ট প্রশ্ন করেন। “কারে কি প্রশ্ন করতে হয় জানেন না”তবে বিজয়ী প্রার্থী নৌকা প্রতিকের ভানু লাল রায় শুরু থেকেই দাবী করে আসছেন, জনগন নৌকার পক্ষে রায় দিয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অভিনন্দন জানিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এক মন্দির প্রাক্ষনে লাইভ করা ভিডিও চিত্র থেকে জানা যায় ওনার বিপক্ষে যে সংবাদ কর্মীরা বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের কুকুর সমতুল্য করে ব্যঙ্গ করে বলেন এবং ওনার কর্মী বাহিনীর দুএকজন সংবাদ কর্মীকে হুমকি প্রদর্শন করে বলেন সময় আসলে দেখা যাবে এমন যোগাযোগ মাধ্যম প্রকাশ্যে লিখেন। এই পরিস্থিতিতে সংবাদ কর্মী হিসেবে সত্য তুলে ধরা অন্যায় কাজ করা হলে এভাবে হুমকির মুখে পড়তে হবে এবং যে কোন সময় বিপদগ্রস্তের মুখোমুখি হতে পারি বলে মনে করছি। আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দুই প্রার্থীর ভোট বর্জনের কথা লোকমুখে শুনেছি। তাঁরা আমাদের লিখিত ভাবে জানাননি। ভোট বর্জনের বিষয়টি আইনসিদ্ধ নয়। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। কিছু ভোটকেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটা সামাল দিয়েছে। কোথাও কোনো কারচুপি হয়নি। ভোট শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here