বাংলাদেশের রাজধানীর বনানীতে বিএনপির মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসারে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ওপর হামলা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। হামলায় বরকত উল্লাহ বুলুর মাথা ফেটে যায়।

ঢাকায় আহত নেতা-কর্মীদের দেখতে রাতেই ইউনাইটেড হাসপাতালে যান বিএনপির বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, এসব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আপনি ভেবেছেন আপনার কর্মীরা নির্দ্বিধায় এসব অপকর্ম করে যাবে আর বিএনপি চুপ করে থাকবে। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রতিটি আঘাতের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। ‘

আজ (শনিবার) রাতে ঢাকা ও কুমিল্লায় বিএনপির নেতাদের ওপর হামলার পরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বরকত উল্লাহ বুলুর রক্ত কি জাতীয়তাবাদী শক্তি মেনে নেবে? আজকে তাবিথ আউয়ালের রক্ত কি মেনে নেবে? আজকে সেলিমা রহমানের উপর উপর্যুপরি যে আঘাত এটা কি মেনে নেবে? এটা কোনো দিন মেনে নেবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায়ের জন্য লড়াই করছিলাম। কিন্তু আমরা গান্ধীবাদে বিশ্বাস করি না, আমরাও প্রতিরোধ করতে জানি। ‘

রিজভী আরও বলেন, ‘আমাদের আজকে অনেক রক্ত ঝরেছে। ১৪ বছরে ক্রমাগত অনেক প্রাণ কেড়ে নিয়েছেন। অনেককেই পঙ্গু করেছেন। এই ২২ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত আপনারা বহু নেতাকর্মী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেক নেতাকর্মীকে অন্ধ করেছে আপনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ‘

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে তার পেটুয়া বাহিনী দিয়ে। গত ১৪ বছরে পেলে পুশে একটা নেকড়ে বাহিনী তৈরি করেছে। তাদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে বিএনপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার এত রক্ত পান করেও তৃষ্ণা মিটছে না। প্রতিদিন যেন তার আরও রক্ত চাই। বিরোধী দলের আরো রক্ত চাই। আরো রক্ত পান করতে পারলে যেন তিনি তৃপ্তি পান। এই ধরনের একটা মনোবৃত্তি নিয়ে তিনি কাজ করছেন। ‘

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা গত ১৪ বছরে তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভেতর থেকে মানুষের আত্মাকে মেরে ফেলে সেখানে শয়তানের আত্মা, হিংস্রতার আত্মাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাই এদের কোনো বিবেক নেই, মানবতা নেই। শেখ হাসিনার অবৈধ ক্ষমতাকে রক্ষা করার জন্য একদিকে যেমন পুলিশ সাজিয়েছে, তেমনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সাজিয়েছে পাহারাদার হিসেবে। ‘

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু কুমিল্লা থেকে আসার সময় তার ওপর আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনী হামলা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তার গোটা শরীর থেঁতলে দিয়েছে। তার মাথা পুরোটাই ব্যান্ডেজ করা। তার উপর দিয়েও রক্ত চুয়ে চুয়ে পড়ছে।’

নিজের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, আমার বাড়ি নোয়াখালী। শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করি। পথে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুসার বাজারের কাছে এলে আমাদের বহনকারী গাড়ির চাকার হাওয়া কমে যায়। আমরা গাড়ি থামিয়ে চাকায় হাওয়া দিচ্ছিলাম। এ সময় আমি একটি চায়ের দোকানে যাই এবং চা পান করার সময় ১০-১৫ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এ সময় আমার মাথা ফেটে যায়। আমার স্ত্রী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বিপুলাসার ইউনিয়নের সাবেক  চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন ও গাড়ি চালককে বেদম মারধর করে হামলাকারীরা। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কারা এ হামলা করেছেন বলে আপনি মনে করেন? -এমন প্রশ্নে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ হামলা করেছেন।