বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে এমন অভিযোগ করে তাদের হটাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। সকল রাজনৈতিক দল ও সকল মানুষকে এক করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। দুর্বার গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার গঠন করি।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পুলিশের গুলিতে দলের তিন কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নিজেই শ্লোগান ধরেন- দাবি এক দফা এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, ফয়সালা হবে কোন পথে রাজপথে রাজপথে, টেক ব্যাক বাংলাদেশ।

খিলগাঁও জোড় পুকুর মাঠের সামনে মহানগর জোন-২ খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানার যৌথ উদ্যোগে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধার সভাপতিত্বে সমাবেশে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর ২ টা থেকেই খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদার বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। নেতাকর্মীরা হামলার শঙ্কায় নিজেদের আত্মরক্ষায় বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। লাঠির মাথায় দেশের জাতীয় পতাকা বেঁধে রাখেন।

আওয়ামী লীগই সুষ্ঠু নির্বাচন করে-লন্ডনে বিবিসিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, আওয়ামী লীগের আমলে যে নির্বাচন হয় সেই নির্বাচনই নাকি সবচেয়ে সুন্দর সুষ্ঠু হয়। তার (প্রধানমন্ত্রীর) এই কথা শুনে ঘোড়াও হাসবে। কারণ তার সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। দেশের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধবংস করে দিয়েছে। তবে দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। সরকারের পতন হবেই।

সভা-সমাবেশে প্রশাসন অনুমতি দিতে গড়িমসি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এই সরকারই শেষ সরকার নয়। এরপরও সরকার কিন্তু থাকবে। আপনাদের ছবিও প্রিন্ট করা আছে, ভিডিও, রেকর্ড করা আছে।

তিনি বলেন, আমাদের কর্মীদের মনোবল অত্যন্ত শক্ত। এখন থেকে যদি আমাদের ওপরে কখনো আক্রমন হয়, কর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রত্যাঘাত করতে প্রস্তুত রয়েছে। আমরা এই এলাকা থেকে সন্ত্রাস অপসারণের আন্দোলন শুরু করবো-এই হোক আজকের শপথ।