ওই পোস্টে কাদের মির্জা বলেন, কোম্পানীগঞ্জে আর যদি একটা মায়ের বুক খালি করা হয়, তাহলে এক নম্বরে আসামি করা হবে ওবায়দুল কাদেরকে, দুই নম্বর আসামি করা হবে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহাবদ্দিন মো. সাহাব উদ্দিনকে, তিন নম্বরে একরাম চৌধুরী (নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী), চার নম্বরে নিজাম হাজারী (ফেনীর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী), পাঁচ নম্বরে ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা, ছয় নম্বরে নোয়াখালী ডিসি, সাত নম্বরে এসি ল্যান্ড, আট নম্বরে কোম্পানীগঞ্জের ওসি, নয় নম্বরে কোম্পানীগঞ্জের ওসি তদন্ত, দশ নম্বরে ইউএনও, এগারো নম্বরে এসি ল্যান্ড, তারপরে অন্যরা।

ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জানার জন্য আজ শনিবার সকালে একাধিকবার ফোন করা হলে কাদের মির্জা রিসিভ না করে কেটে দেন। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৫)। ৯ মার্চ রাত ৯টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে আবার দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে নিহত হন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আলাউদ্দিন (৩২)। তিনি চরফকিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে সরকার, নির্বাচন, দলের নেতা ও সাংসদদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। একপর্যায়ে কাদের মির্জা তাঁর বড় ভাই ওবায়দুল কাদের ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁকে (কাদের মির্জা) হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন। কাদের মির্জার কথিত ‘সত্যবচন’ স্থানীয় পর্যায়ে দলে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে দলে একটি পৃথক বলয় সৃষ্টি হয়। একে একে ওই বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরীসহ দলের নেতা-কর্মীরা।