আনন্দটিভি সাংবাদিক মিলন খন্দকারের নির্যাতনের ভয়ে স্ত্রী সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা :
গাইবান্ধা জেলায় আনন্দটিভির ষ্ট্যাফ রিপোর্টার মিলন খন্দকার কর্তৃক হুমকি ও স্ত্রী সন্তান কে অমানুবিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার প্রথম স্ত্রী লাভলী, ছেলে লেলিন (১৫), মেয়ে মীম (১০)। মুল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের করতে চাইলে প্রেসক্লাবের সম্মতি না পাওয়ায় অবশেষে বাংলাদেশ তৃণমুল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির গাইবান্ধা জেলা অফিসে ১০ বুধবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ ও অত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিলন খন্দকারের প্রথম স্ত্রী লাভলী বেগম বলেন,গত ২০ বছর আগে সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের রিফাইতপুর গ্রামের জোব্বার খন্দকারের এর পুত্র মিলন খন্দকারের সহিত মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিয়ের পর হতে এ দস্পতি লাভলীর বাবার বাড়ীতে বসবাস করতো এরপর তাদের সংসারে আসে ২ টি সন্তান এদের একজন লেলিন (১৫) সে দশম শ্রেনীর ছাত্র ও মেয়ে মীম (১০) সে ৫ শ্রেনীর ছাত্র।দীর্ঘদিন হলো মিলন খন্দকার আমার বাবা মায়ের নিকট হতে জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করছিলো। পরে আমার ভাইয়েরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে বাড়ী হতে বের করে দেয় এরপর হতে গাইবান্ধা শহরের ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকি। এরপর সে আমার ভাইদের নামে নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল পর্যন্ত খাটিয়েছে। এর একপর্যায়ে সে আমার বাবার দেওয়া আমার নামের ৪ শতাংশ জমি মিলন খন্দকার নিজ নামে লিখে চায় এবং আমাকে নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করাসহ মারধর,হত্যার হুমকি এবং তালাক দেওয়ার হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এরপর আমাকে না জানিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুরের এক হিন্দু সাধুর মেয়েকে মোটা অংকের টাকা ও স্বর্নলংকার সহ পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিবাহ করে। এই মিলন খন্দকারের ভয়ে সাধু পরিবারটি কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি। এরপর স্থানীয় একটি এনজিওর মাধ্যমে শালিশ বৈঠকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আমাকে নিয়ে ঘর সংসার করিবে মর্মে আমাকে ও আমার সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে যায়। সেখানে গিয়ে আমাদের ভাত কাপড় দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং জরার্জীণ একটি ঘরে বসবাস করতে দেয়। আর তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাধু কন্যাকে দামী শাড়ি,ভালো ভালো খাওয়ায় আর আমাদের ভরণ পোষণ বন্ধ করে দেয় এই মিলন খন্দকার। পরে আরো জানতে পারি মিলন খন্দকার আমাকে বেকডেটে তালাক দিয়েছে।
আমি এই লম্পট, ধান্দাবাজ,নারী লোভী,মাদকাসক্ত,পরসম্পদলোভী,সাংবাদিক নামে কলংঙ্ক মিলন খন্দকারের বিরুদ্ধে গত ৯ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার গাইবান্ধার মানবধিকারকর্মী রুপম মিয়াকে সাথে নিয়া গাইবান্ধা লিগ্যাল এইড গিয়ে লিখিত অভিযোগ প্রদান করি। বর্তমানে এই মিলন খন্দকার আমার দু সন্তানের ভরণ পোষণ,সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ এবং খোজখবর তো দুরের কথা কাউকে গিয়ে এসব কথা বললে আমাকে ও আমার সন্তানদের খুন ও ঘুম করার হুমকি ধামকি দিয়ে রাখে।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারাতো জাতির বিবেক। সেই আপনাদের কেই বলছি আমার স্বামী মিলন খন্দকার যখন সাংবাদিকতা শেখে তখন তার পকেটে একটি টাকাও ছিলো না, আমি সন্তানসহ না খেয়ে থেকে তাকে রিক্সায় ভাড়া দিয়েছি। একদিন সে আমার কাছে ক্যামেরা কিনে চায় আমি আমার কানের দুল বিক্রি করে এবং ভাই বোনদের নিকট ধার নিয়ে তাকে ক্যামেরা কিনে দেই। এরপর আমার মায়ের নিকট ২ লক্ষ টাকা মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য গ্রহন দাবী করে আমার মা আমার সুখের কথা চিন্তা করে তার শেষ সম্বল দেড় লাখ টাকা প্রদান করে। এর কয়েকদিন পর সে আবার আমাকে ১ লাখ টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে টাকা আনার জন্য বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। সে নাকি ঠিকাদারি কাজ করবে আর সে কাজ করতে টাকা প্রয়োজন অবশেষে আবারো ভাই বোনদের ধরে এক লাখ টাকা মিলন খন্দকারকে প্রদান করি। আজ এখন আমাকে ও আমার সন্তান দের শুন্য হাতে মিলন খন্দকারের বাবার বাড়ীতে বের করে দেয়। এখন সে বর্তমানে আনন্দটিভির সাংবাদিকতার দাপট দেখিয়ে আমার উপর চরম এবং অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভয়ে কেউ আমাদের সহযোগীতা করে না। যেখানে যাই সেখানেই বড় বাধা মিলন খন্দকার তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ গ্রহন করতে চায় না। আমি প্রায় ২ মাস সদর থানায় ঘুরেছি কোন বিচার পাই নাই। পুলিশ এই সাংবাদিক মিলন খন্দকারের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেয়নি। এই হলুদ সাংবাদিক মিলন খন্দকারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছি কিন্তু প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবুসহ গাইবান্ধার প্রবীন ও বড় বড় সাংবাদিকরা আমার অভিযোগ আমলে নেননি। আজ আমি বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ তৃণমুল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির গাইবান্ধা জেলার শাখার কার্যালয়ে এসে এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপারসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে আমার স্বামীর এসব নানা অপরাধ, এবং আমার সাথে  করা সমস্ত অন্যায়ের জোড় বিচার দাবী করছি।একই সাথে আমি ঐ লম্পট সাংবাদিক মিলন খন্দকারের কর্মস্থল আনন্দটিভির চেয়ারম্যানসহ আনন্দটিভি অন্যান্য কর্মকর্তাদের জরুরী দৃর্ষ্টি আর্কষণ করছি করে বলছি। আপনারা আপনাদের এই লম্পট সাংবাদিক মিলন খন্দকারের আনন্দটিভির পরিচয়পত্র / আইডি কার্ড বাতিল করুন।আপনাদের কাছে আমার কড়জোড়ে অনুরোধ তাহার হাতে থাকা ক্যামেরা আমার কানের দুল বিক্রি করে কিনে দিয়েছি আপনার তার নিকট থাকা ক্যামেরা জব্দ করে আমাকে ফিরিয়ে দিন। আপনাদের আরো অবগত করি এই মিলন খন্দকার সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে গাইবান্ধা চাদাবাজি, আর সন্ত্রাসীকর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।অবৈধ আয়ের টাকায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাধু কন্যাকে রাজকীয় ভাবে রাখছে জীবন যাপন করছে। অথচ আমার টাকায় খেয়ে পরে সাংবাদিকতা শিখে এখন আমাকে  ডির্ভোস দিয়েছে।আমি সহ আমার সন্তানরা বর্তমানে চরম ভয় আর আতংকে দিন যাপন করছি। এসব কথা তুলে ধরলে সে আমাকে খুন করে গুম করে রাখবে বলে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনার কাছে আমার জীবনের নিরাপত্তা ও আমার সন্তানদের বাচার নিশ্চয়তা চাইছি। একই সাথে নারী লোভী সাংবাদিক মিলন খন্দকারের শাস্তি দাবী করেছেন।