‘আজকে দেশে একটাই সংকট, দেশে গণতন্ত্র নেই,সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে’-নূর

৫ মার্চ ২০২১।স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে না আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
শুক্রবার (৫ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শ্রমিক অধিকার পরিষদের উদ্যোগে শ্রমিক নেতা রুহুল আমিনসহ বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারকৃত সকলের মুক্তি ও আইনটি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন- স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রোগ্রামে আমাদের দেশে অতিথি হয়ে আসবেন নরেন্দ্র মোদি। যেই নরেন্দ্র মোদিকে ভারতেই গুজরাটের কসাই নামে আখ্যায়িত করা হয়। আমেরিকার মত রাষ্ট্র রেড লিস্টের অন্তর্ভুক্ত করেছিল, আমেরিকা সফর স্থগিত ছিল।’
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক মোদিকে বাংলাদেশে এনে দেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তামাশা করবেন না। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ছিনিমিনি করবেন না।’
সাংবাদিকদের ওপর সরকার দমন-পীড়ন চালাচ্ছে অভিযোগ করে নুর বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সরকারি দলের নেতারা জড়িত। সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডে সরকারি দলের নেতারা জড়িত। এই করোনাকালে প্রায় শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। কয়েকজন সম্পাদক আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন- এই আইনের ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন তারই প্রতিফলন ঘটছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সাংবাদিকরা লেখালেখি করতে পারছেন না। সরকারের দুর্নীতি, গুম, খুন নিয়ে আলোচনা করা যায় না। ইতিহাসে যত সংকট হয়েছে, সাংবাদিক-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিবাদের ফলেই স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটেছে।’বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে নুর বলেন, ‘আজকে দেশে একটাই সংকট, দেশে গণতন্ত্র নেই। বিনা ভোটের সরকার বাংলাদেশকে ইরাক, সিরিয়া, মিয়ানমার বানাতে চাই। এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তির জন্য আপনাদের সংগ্রাম করতে হবে, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে বিতর্কিত কালো আইন বাতিল করা না হলে জাতীয় সংসদ ভবন ঘেরাও করা হবে। ২৬ মার্চের পরে আমাদের কর্মসূচি হবে সারা বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে, এক দফা এক দাবি হাসিনা তুই কবে যাবি।’
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্য করে সাবেক ভিপি নুর বলেন, ‘আপনারা এই অবৈধ সরকারকে না বলে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে যান। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, সিভিল সোসাইটির নাগরিকসহ সকল সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক। বাংলাদেশ যেন মিয়ানমার আফগানিস্তান সিরিয়া না হতে পারে, তার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম আমাদের গড়ে তুলতে হবে এবং প্রশাসনকে এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার একটা বিষয় আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কাজেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, সেই চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত হতে দিতে পারি না।’