মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী,  কুমিল্লা :  বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখতে ২০২১ সালে চালু করা হয় পদক।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদকে ভূষিত হয়ে আসছেন। এ বছর দ্বিতীয়বার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক দেওয়া হচ্ছে।রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজসেবা, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরুপ কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরী এমপিসহ ৫ জন বিশিষ্ট নারী পাচ্ছেন এই পদক।
অর্থনীতি ও রাজনীতিতে রয়েছে সেলিমা আহমাদ মেরী এমপির গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কুমিল্লার এই বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্ব এ বছর ববঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক-২০২২- এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ায় সব শ্রেণীর মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষও।
এই মহিয়সী নারীর প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা-১৯৬০ সালে এদিনে কুমিল্লা জেলা হোমনা উপজেলা আসাদপুর ইউনিয়ন পাথালিয়াকান্দি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার সপরিবার মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষা স্নাতকোত্তর যেখানের শিক্ষার্থীও শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কর্মজীবন- সেলিমা আহমাদ (মেরী) নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারপার্সন। এটি বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যার ২৬টি কোম্পানী রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি জয়েন্ট ভেঞ্চার এবং ৩টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী। এর মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল, সিমেন্ট, পেপার, রিয়েল এস্টেট, ইলেকট্রনিক্স এবং আর্থিক সেবা। রাজনৈতিক জীবন-তিনি গত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিনারউসিসিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি। ব্যক্তিগত জীবন- সেলিমা আহমাদ মেরী’র স্বামী ব্যবসায়ী নেতা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ । তাদের দুই সন্তান আবদুল মুসাব্বির আহমাদ (নিটল) এবং আবদুল মারিব আহমাদ (নিলয়)। পুরস্কার ও সম্মাননা- অসলো বিজনেস ফর পিস পুরস্কার, ২০১৪, প্রিয়দর্শিনী পুরস্কার, ২০১২, বিজনেস এক্সপ্রেস পুরস্কার, ২০০৯,বেস্ট বিজনেস উইমেন, ২০০০, ২০০২, ২০০৩।
সেলিমা আহমাদ এমপি’ চলতি বছরের জুন থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত ২ বছরের জন্য বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপের উইমেন এন্টারপ্রেনিয়র ফিনান্স ইনিশিয়েটিভের (উই-ফাই) এর জন্য সম্মানিত লিডারশিপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবারও মনোনীত হয়েছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বৈঠক করে পদকপ্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে, এ পদকের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
পত্রিকায় প্রকাশের পর সর্বমোট ১১৬টি আবেদন পাওয়া যায়। এরপর গত ১ জুন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে আটজনের নাম সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ করা নামের মধ্য থেকে জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পাঁচজনকে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বলে সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনীতিতে অবদানের জন্য সেলিমা আহমাদ মেরি এমপি ছাড়াও এ বছর পদক পাচ্ছেন  রাজনীতিতে সৈয়দা জেবুন্নেসা, শিক্ষায় অধ্যাপক নাসরিন আহমাদ, সমাজসেবায় মোছা. আছিয়া আলম ও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য।
পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ১৮ ক্যারেট মানের ৪০ গ্রাম স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী ও বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে নেপথ্যের কারিগর ছিলেন। বঙ্গমাতার অবদান স্মরণীয় করার লক্ষ্যে ২০২১ সাল থেকে সরকার এই পদক চালু করা হয়।
আগামী ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে এ পদক দেওয়া হবে। প্রতিবছর ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিবস উপলক্ষে আয়োজিত বঙ্গমাতা জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মনোনীত নারীদের এই পদক প্রদান করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় পদক পাওয়ার খবরটি দৈনিক আজকালের খবরকে নিশ্চিত করে সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরি বলেন, আমার দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবনে আমি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কাজ করে আসছি। তারই ফলস্বরূপ বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক আমি সম্মাননা ও পদক লাভ করেছি। অর্থনীতি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সরকার আমাকে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক – ২০২২’ প্রদান করবেন আগামী ৮ই আগষ্ট, ২০২২ ইং তারিখে।
এই পদক আমার জন্য অনেক শ্রদ্ধা আর ভালবাসার, আমার প্রানপ্রিয় বাংলাদেশ ও আমার সরকারের স্বীকৃতি। এই পদকের মর্যাদা অনেক ও গুরুত্ব অপরিসীম। আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই, জানাই মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ।  আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আবেগে আপ্লুত এবং নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই পদক আমার কর্মজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন এবং এটি আমার সমগ্র জীবনে অসংখ্য গুরুত্ব বহন করবে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে, বাংলাদেশ মন্ত্রী পরিষদ কমিটিকে, দেশ ও বিদেশের সকল নারী উদ্যোক্তাদের, এফবিসিসিআই ও বিডাব্লিউসিসিআইকে। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই হোমনা-তিতাসের সকল নেতাকর্মীদের আর আমার প্রানপ্রিয় জনগণকে।