অভিযান উপেক্ষা করে নির্বিচারে মেঘনায় নিধন হচ্ছে ঝাটকা ও মা ইলিশ!

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ঝাটকা ও মা ইলিশ নিধনের মহোউৎসব চলছে। রায়পুর,কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বড়খেরী, চররমিজ, আলেকজান্ডার, লুধুয়া,মতির হাট, মজুচৌধুরী ঘাট, ইউসুফ ছৈয়ালের ঘাট, আলতাফ মাস্টারের ঘাট, হায়দারগঞ্জ, চরভৈরবী ঘাট সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডদের আঁতাত করে প্রকাশে চলছে ঝাটকা, মা ইলিশ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধন।
জেলেরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সুবিধামতো সময়ে নদীতে নেমে মাছ নিধন করছে। অনেক সময় নদীতে জেলেরা না যেতে চাইলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালীসহ দাদনধাররা নদীতে যেতে বাধ্য করছে। মাছ না ধরতে গেলে হুমকি, ধামকি ও দাদনের টাকার জন্য চাপ দেয়।
জানা গেছে, পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকা হচ্ছে চাঁদপুর জেলার ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার মদনপুর/চর ইলিশা হতে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া হতে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মধ্যে অবস্থিত পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকা এবং বরিশাল জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর, গজারিয়া ও মেঘনা নদীর প্রায় ৮২ কিলোমিটার এলাকা।
প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস উল্লিখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এসময় ইলিশের অভয়াশ্রমসমূহে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অমান্যকারী কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে -‘যারা নদীতে জেলেদের দাদন দেয় তারা অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। কোন অভিযানে যাওয়ার আগে তাদের কাছে খবর পৌঁছে যায়। আমাদের লোকবল অত্যন্ত কম। তারপরও আমরা নদীতে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে থাকি।
গতকাল মেঘনায় অবৈধ বিহুন্দী জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ৭ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের জরিমানা করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বলেন -‘আমরা জেলেদেরকে সচেতন করেছি। তারপরও যদি কোন জেলে নদীতে গিয়ে মাছ ধরে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’