অগ্নিগর্ভ ত্রিপুরা। সিপিএম বিজেপি সংঘর্ষ, একের পর এক পার্টি অফিসে আগুন

জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ‍দুটি গাড়ি। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরিস্থিতি এখন বলতে গেলে একেবারেই অগ্নিগর্ভ। একের পর এক সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। দলীয় নেতা কর্মীদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। দাউ দাউ করে জ্বলছে পার্টি অফিস। পুড়ছে একের পর এক গাড়ি। এই ছবি দেখছে গোটা ভারত। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নিচ্ছে পার্টি অফিসের একের পর এক ঘর। এদিকে বিজেপির পালটা দাবি জনরোষে এসব হয়েছে। সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে বোমা ছোঁড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এমনকী এটা তো সবে ট্রেলার চলছে এমনটাও দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। এদিকে এদিন দমকলকেও আগুন নেভাতে যেতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

গত সোমবারই ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী সিপিএম নেতা মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। এনিয়ে পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সিপিএম। আর বুধবার (৮ আগস্ট) সিপিএমের বিরুদ্ধে পালটা আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।এককথায় ভয়াবহ পরিস্থিতি। সিপিএম কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসছে আগুনের লেলিহান শিখা। আতঙ্কে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। ত্রিপুরার এই ছবি দেখে শিউরে উঠেছেন অনেকেই। বুধবার বিকালে উদিপুরে সিপিএমের মিছিল ছিল। সূত্রের খবর, এই মিছিল থেকেই অশান্তির শুরু। বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এদিকে বিজেপির অভিযোগ বামেদের কার্যালয় থেকেই প্রথমে বোমা ছোঁড়া হয়। ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। একজন বিজেপি কর্মীও জখম হন। বিজেপির দাবি, তারই প্রতিবাদে আছড়ে পড়ে জনরোষ। সিপিএমের দশরথ ভবন ও ভানু ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় নেমে আসেন বিজেপির কর্মীরা। বিশালগড়ে বামেদের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আক্রান্ত হয় সংবাদমাধ্যমও। স্থানীয় তৃণমূল নেতা আশিস লাল সিংহ ও জয়া দত্ত আগরতলায় বামেদের পার্টি অফিসে গিয়ে আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বিজেপির তরফে বামেদের বিরুদ্ধে পালটা হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আমরা হিংসায় বিশ্বাস করি না। তবে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙলে কী পরিণতি হয় তার ট্রেলার সকলেই দেখলেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব। ত্রিপুরার মাটিতে দাঁড়িয়েই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতারা। বুধবার তৃণমূল নেতৃত্ব গিয়ে ত্রিপুরায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা মানিক সরকারের সঙ্গে দেখা করেন।

ত্রিপুরায় সহিংসতা ও গণমাধ্যমের অফিসে হামলার ঘটনায় গর্জে উঠেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, ‘হিংসা আর গুন্ডামি বিজেপির সঙ্গে এত মিশে গিয়েছে যে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের উপরেও নৃশংসভাবে আক্রমণ নেমে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের ঐক্যবদ্ধতার পাশে আমরা থাকব।’ বিপ্লব দেবকে নিশানা করে তিনি লিখেছেন ‘ত্রিপুরায় দুয়ারে গুন্ডা মডেলকে হঠাতে আমরা লড়াই চালাতে বদ্ধপরিকর।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here